টিশবিরোধী আন্দোলনের কর্মী ময়না( Moyna Dip )মিয়া এই এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি এই চরে গরু চরাতেন । নদে মাছ ধরতেন। অবসরে চরের বুনো গাছের তলায় শীতল হতেন। বাঁশির সুরে ঢেউ তুলতেন। সেই সুর শুনে লোকজন ছুটে আসলে সবার মাঝে ব্রিটিশদের তাড়ানোর মন্ত্র দিতেন। এরপর লোকমুখে ধীরে ধীরে এর নাম হয়ে যায় ময়নার চর। আবার এই চরে এক সময় প্রচুর ময়না পাখির বাস ছিল। ছিল পাখিদের অভয়ারণ্য। এখনো এখানে প্রচুর দেশীয় পাখির দেখা পাওয়া যায়।
![]() |
ময়না দ্বীপ | ময়মনসিংহ |
আগে এই স্থানের কথা তেমন কেউ জানত না। এখন স্থানীয় ভ্রমণ পিপাসু সবার মুখে মুখে ময়না দ্বীপের নাম। সেই থেকে এখানে লোকজনের যাতায়াত ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন লোকজন দলে দলে শহরের কোলাহল থেকে মুক্তি লাভের নেশায় কিংবা বনভোজনের জন্য ছুটে যায় ময়না দ্বীপে। এখন অনেক জনপ্রিয় একটি স্থানের নাম ময়না দ্বীপ।
কিভাবে যাবেনঃ
বাস:
ঢাকা থেকে সড়ক পথে ময়মনসিংহে আসতে মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন পরিবহন সংস্থার মেইল ও লোকাল গাড়িতে ২ ঘন্টা ৩০ মিনিট থেকে ৩ ঘন্টা ৩০ মিনিটে ময়মনসিংহে পৌঁছা যায়। মহাখালী ছাড়াও কমলাপুর, বিআরটিসি টার্মিনাল থেকে ঢাকা-নেত্রকোনা রুটের গাড়িতেও ময়মনসিংহে আসা যেতে পারে। এ পথে সবচেয়ে ভাল পরিবহনের মধ্যে রয়েছে এনা ট্রান্সপোর্ট। এ সেবা পেতে জনপ্রতি গুনতে হবে ২২০ টাকা। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে এই পরিবহণ ছেড়ে যায়। সৌখিন পরিবহন-১৫০ টাকা। ময়মনসিংহ মাসকান্দা বাসস্টান্ড থেকে রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা কিংবা সিএনজিতে যেতে হবে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ মোড়।
সময় লাগতে পারে ২০-২৫ মিনিট। গিয়ে যে কাউকে জিজ্ঞেস করলেই দেখিয়ে দেবে ময়না দ্বীপ। ভাড়া লাগতে পারে রিকশায় ২৫-৪০ টাকার মতো। অটো রিকশায় ১০-১৫ টাকা প্রতিজন। আর রিজার্ভ নিলে ৬০-১০০ টাকার মতো। রেল স্টেশন থেকেও দূরত্ব ও ভাড়া প্রায়ই সমান। এ ছাড়া সড়ক পথে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শেষ মোড় গিয়ে হেঁটেই ঘাটে চলে যাওয়া যায়। ঘাটে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ দিকে তাকালেই চোখে পড়বে গাছ-গাছালি ঘেরা উঁচু টিলা ও জঙ্গলের মতো একটা কিছু। এটাই ময়না দ্বীপ। পানি না থাকলে চার-পাঁচ মিনিট হে্ঁটেই উঠে যাওয়া যাবে দ্বীপে। ট্রেন: ঢাকা থেকে তিস্তা এক্সপ্রেস সাতটা বিশ এ ময়মনসিংহ এর উদ্দেশ্যে ছাড়ে। এছাড়াও অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস নয়টা চল্লিশ এ ছাড়ে। এগুলো সব আন্তঃনগর ট্রেন। মেইল ট্রেনেও যেতে পারেন। মেইল ট্রেন গুলো হল মহুয়া এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেস, বলাকা এক্সপ্রেস ইত্যাদি।

No comments:
Post a Comment