উলানিয়া জামে মসজিদ, বরিশাল - Bangladesh Traveling

Breaking

Wednesday, July 1, 2020

উলানিয়া জামে মসজিদ, বরিশাল

প্রাচ্যের ভেনিস নামে পরিচিত শহর বরিশাল। প্রাচীন এই শহরটিতে ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা স্থাপনা এখনও পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি উলানিয়া জামে মসজিদ। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটির প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬১ সালে। অপূর্ব নির্মাণশৈলীর এই মসজিদটির সাথে জড়িত আছে মগ-পর্তুগিজদের দমনের ইতিহাসও।



পঞ্চদশ শতকের গোঁড়ার দিকে এই অঞ্চলে মগ-পর্তুগিজ জলদস্যুদের আক্রমণে এখানকার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছিল। এদের দমনের উদ্দেশ্যে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব সুবেদার শায়েস্তা খানকে পাঠান। বিশাল সৈন্য সামন্তসহ জলদস্যুদের বিতাড়িত করতে মেহেন্দিগঞ্জের গোবিন্দপুরে কেল্লা তৈরি করা হয়। যেটি সংগ্রাম কেল্লা নামে পরিচিত ছিল। পারস্য বংশোদ্ভূত মোঃ হানিফ জলদস্যুদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে বীরত্ব প্রদর্শন করেন এবং অভিযান শেষে তিনি এখানে থেকে যান।

একসময় মোঃ হানিফ এর উত্তরাধিকারী শেখ মোঃ হাবিজ, ভ্রাতুষ্পুত্র ও জামাতা কেল্লা থেকে সামান্য পশ্চিমে উলানিয়ায় এসে বসবাস শুরু করেন। এবং শেখ মোঃ হাবিজের পুত্র শেখ মো সদরুদ্দিনের আমলেই এখানে জমিদারি প্রতিষ্ঠা হয়। উঁচু প্রাচীর ঘেরা জমিদার বাড়ির ফটকের সামনেই নির্মাণ করেন উলানিয়া মসজিদ। উক্ত অভিযানে নির্মিত সংগ্রাম কেল্লা এক সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এই উলানিয়া জামে মসজিদটিকে এখন অনেকে সংগ্রামকেল্লা হিসেবে ডেকে থাকেন।



উলানিয়া জামে মসজিদ

৩ গম্বুজ বিশিষ্ট নান্দনিক এই মসজিদটি আকৃতিতে অনেকটা তাজমহলের কাঠামোয় নির্মিত। বেশ কয়েকবার সংস্কার করা হলেও এর মূল অবয়বটি ঠিক রেখেই এই সংস্কার করা হয়। দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করেছে। মোগল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটির ৩ টি দরজা রয়েছে।

মূল গৃহের আগে লোহার ৬ খামের উপর প্রতিষ্ঠিত জাফরির কাজ রয়েছে। এছাড়া এর ভেতর বাহিরের দেয়ালে নানা রকম জ্যামিতিক নকশার সহিত ফুল ফলের নকশাও পরিলক্ষিত হয়। মসজিদের ৩টি প্রবেশে পথের দরজায় ৩টি শিলালিপিও রয়েছে। মসজিদের সামনে একটা চারপাশ বাঁধানো পুকুরও রয়েছে। মসজিদের পাশেই রয়েছে থাকার জায়গাও।

No comments:

Post a Comment