যান্ত্রিক জীবনের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে আমাদের মাঝেমধ্যেই মনে হয়, যদি পারতাম চেনা গণ্ডি ছেড়ে দূরে অন্য কোথাও চলে যেতে! অনেকেরই ইচ্ছে হয়, অন্তত একদিনের জন্য সব ব্যস্ততা ভুলে সুন্দর একটি দিন কাটাতে! আর মানুষের এই স্বভাবসুলভ ইচ্ছাকে পূরণ করতেই আজ আমরা আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব ‘ভিন্ন জগতের’ সঙ্গে। হ্যাঁ, ভিন্ন জগৎ। রংপুরের ভ্রমণ স্পটগুলোর একটি। এই জগতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মনোরম পরিবেশ আপনাকে মুক্তি দেবে যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততা থেকে। রংপুর শহর থেকে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে ভিন্নজগতের অবস্থিত। রংপুরের পর্যটকদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান
রংপুরের ভ্রমণ স্পটগুলোর মধ্যে ভিন্ন জগৎ অন্যতম। এটি রংপুরের সবচেয়ে বড় পিকনিক স্পট ও পর্যটনকেন্দ্র। রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার গঙ্গীপুরে এর অবস্থান। টিকেট কেটে পার্কে প্রবেশের পর লোহার ব্রিজ, তা পেরোলেই জগৎটা ভিন্ন হয়ে যায়।
কি আছে? সারাক্ষণ নানা জাতের পাখির কোলাহলে মুখরিত এই জায়গাটি। এর গাছে গাছে দেখা যায় নানান প্রজাতির পাখি। সন্ধ্যা হলেই তারা তাদের নীড়ে ফিরে যায় । ভিন্নজগতে শোভা পাচ্ছে দেশি-বিদেশি হাজারও বৃক্ষ। এখানে দর্শনার্থীরা গাছের ছায়ায় সারাটা দিন ঘুরে বেড়ায়। ভিন্নজগতের প্রধান ফটক পার হলেই তিন দিকের বিশাল লেক ঘেরা নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখা শেষ হলেই সামনে পড়বে লোহার ১টি ব্রিজ। ব্রিজটি পার হলেই ভিন্নজগতের ভেতর যেন আরেকটি ভিন্নজগত।
এখানে রয়েছে আধুনিক বিশ্বের বিস্ময় এবং দেশের প্রথম প্লানেটোরিয়াম।গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা ভিন্ন জগতে দেখতে পাবেন পিকনিকের জন্য কটেজ, পাখিদের অভয়ারণ্য, শপিংমল, ৫০০ আসনবিশিষ্ট আধুনিক কনফারেন্স কেন্দ্র, কমিউনিটি সেন্টার, স্কিল টেস্ট রোবট জোন ও সুইমিংপুল। আরো রয়েছে শিশু-কিশোরদের জন্য শিশুকানন, মেরিগো রাউন্ড, হেলিকপ্টার ফ্লাইজোন, নাগরদোলা, ক্যাঙ্গারু মুভিং, স্পাইডার জোন, বাম্পার কার, রেসিং হর্স, সি-প্যারাডাইস, মকি ট্রেন, জলতরঙ্গ, আজব গুহা, থ্রিডি মুভি, বরফের দেশ, স্পেস জার্নি, শাপলা চত্বর, বীরশ্রেষ্ঠ ও ভাষাসৈনিকদের ভাস্কর্য এবং বিশাল আকৃতির নিজস্ব লেকে নৌ-ভ্রমণের ব্যবস্থা। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভিন্ন জগতে কনসার্টসহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে। পর্যটকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ভিন্ন জগতে রয়েছে একটি তথ্যকেন্দ্র, যা পর্যটকদের বিভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়ে ও হারানো জিনিস খুঁজে পেতে সাহায্য করে।
একই সঙ্গে রয়েছে অন্তত ৫শ’টি পৃথক দলের পিকনিক করার ব্যবস্থা। শুধু ভেতরেই রয়েছে অন্তত ৮/৯শ’ গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা। কটেজ রয়েছে ৭টি। রয়েছে থ্রি স্টার মডেলের ড্রিম প্যালেস।এখানকার জলাশয়ে রয়েছে নৌভ্রমণের সুবিধা। শিশুদের জন্য রয়েছে ক্যাঙ্গারু, হাতি, ঘোড়াসহ নানা জীবজন্তুর মূর্তি। বিনোদনের এক অপূর্ব সমাহার ভিন্ন জগৎ, যা বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
প্রবেশ মূল্য : ভিন্ন জগৎ বছরজুড়েই সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। পার্কে প্রবেশের মূল্য ৫০ টাকা। প্রতিটি রাইডের টিকেট মিলবে জনপ্রতি ৫ থেকে ৩০ টাকায়।
রিসোর্টে থাকার খরচ :
রংপুরে থাকার হোটেল: আর থাকতে চাইলে ভিন্ন জগতের রিসোর্টে উঠতে পারেন। এ ছাড়া থাকার জন্য রংপুর শহরও উত্তম। এখানে অনেক ভালো মানের হোটেল রয়েছে। ভালো হোটেলের মধ্যে রয়েছে হোটেল শাহ আমানত (জাহাজ কোম্পানির মোড়), হোটেল গোল্ডেন টাওয়ার (জাহাজ কোম্পানির মোড়), হোটেল দি পার্ক (জাহাজ কোম্পানির মোড়), হোটেল তিলোত্তমা (থানা রোড), হোটেল বিজয় (জেল রোড), আরডিআরএস (জেল রোড)। এ ছাড়া আরো অনেক হোটেল রয়েছে রংপুরে। আপনি পছন্দমতো সেসবের একটিতে উঠতে পারেন। খরচ খুব বেশি নয়।
কিভাবে যাবেন ? ঢাকা থেকে রংপুর যাওয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো পরিবহন হলো গ্রিনলাইন ও টি আর ট্রাভেলস। এ ছাড়া এ রুটে আগমনী পরিবহন, এসআর, শ্যামলী, হানিফ, কেয়া ইত্যাদি পরিবহনের সাধারণ বাস চলাচল করে। ঢাকার কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ছাড়ে এসব বাস।
সড়কপথ ছাড়াও রেলপথে রংপুর যাওয়া-আসা সম্ভব। ঢাকা ছাড়া অন্যান্য শহর থেকেও রংপুর যাওয়ার জন্য ভালো পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে। রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে খুব সহজেই বাস অথবা অটোতে করে যাওয়া যায় ভিন্ন জগৎ। বাসে গেলে পাগলা পীর এলাকায় নেমে আবার অটো নিতে হবে ভিন্ন জগতের উদ্দেশে।



No comments:
Post a Comment