ঐতিহাসিক স্থাপনা মানেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে তাদের মহিমা প্রকাশ করে। প্রতিটি জেলার এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা যেমন আমাদের দেশের সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ তেমনি পর্যটকদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এসকল স্থাপনাগুলো ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন জেলাগুলোতে। আর তার সাথে জড়িয়ে আছে নানান ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতি। এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি ইতিহাসের ধারক ও বাহক। উত্তরের জেলা নীলফামারীতে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধর্মপালের গড়।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলায় ধর্মপালের গড় অবস্থিত। ডোমার রেল স্টেশন থেকে আনুমানিক ৫ মাইল পূর্ব-দক্ষিণ দেওনাই নদীর পূর্বতীরে গড় ধর্মপাল নামক গ্রামে এ গড়টির অবস্থান৷ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ধর্মপালের গড় নীলফামারীর অন্যতম একটি আকর্ষণীয় স্থান। জেলার একমাত্র প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনা এটি। এই গড়টির প্রথম খনন কাজ শুরু হয় ১৯৯০ সালে। তবে পরবর্তীতে তা স্থগিত করা হয়েছিল। পরে আবার ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় এটি খননের মাধ্যমে আবিষ্কার করে।
ইতিহাস থেকে জানা যায়, পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল পালের (৭৯৫ খ্রিঃ) মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র ধর্মপাল রাজ সিংহাসনে আরোহণ করেন। তিনি জলঢাকা উপজেলার উত্তর পশ্চিমে প্রায় ২০ কি: মিঃ দুরে তাঁর রাজধানী স্থাপন করেন। এখান থেকেই তিনি রাজ্য পরিচালনা করতেন। বাইরের শক্রর হাত থেকে আত্মরক্ষার জন্য তিনি মাটির প্রাচীর দ্বারা পুরো রাজধানীর চারপাশে বেষ্টনী তৈরি করেন। তার নাম অনুযায়ী এ স্থানের নাম হয় ধর্মপাল গড়।
ধর্মপালের গড়
তবে, এসকল তথ্যের সত্যতা নিয়ে নানান মতভেদ রয়েছে। কারণ ঐতিহাসিকভাবে এসব লোককথার সঠিক প্রমাণ মেলা ভার। প্রাচীন বাংলা যে কয়টি ভাগে বিভক্ত ছিল, তারই কামরূপ অংশের একটি অঞ্চল হল নীলফামারী জেলা। আর বাংলার কামরূপ অঞ্চল কখনো পাল বংশের অধীনে ছিল না। সে হিসেবে এ ঐতিহাসিক স্থাপনা পাল রাজা ধর্মপালের কি না, সেই বিষয়টা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। তবে এটি যদি পাল বংশের স্থাপনা হয় তাহলে এই গড়ের বয়স হবে প্রায় ৫০০ থেকে ১০০০ বছর পুরনো। তার কারণ বাংলায় পাল বংশের ইতি ঘটেছিল ১১৫৮ খ্রিস্টাব্দে।
এই গড় এলাকার চারপাশ ঘিরে আছে অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সবুজে মোড়া দারুণ এক সতেজ পরিবেশ বিরাজমান। ধর্মপালের গড়ের পাশেই দেখতে পাবেন ছোট একটি গ্রামীণ মন্দির। এছাড়া গড়ের রাস্তাটি চমৎকার বৃক্ষের সাড়ি দিয়ে ঘেরা। গড় থেকে প্রায় ১ মাইল পূর্বে তার রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ ও প্রায় ৩৩ বিঘা পরিমিত চন্দনপাঠের দীঘি আজো তার স্মৃতি বহন করছে। বর্তমানে এ ধ্বংসাবশেষের কোল ঘেঁষে গড়ধর্মপাল নামে আবাসন প্রকল্প গড়ে উঠেছে।
যেভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে খুব সহজেই যে কোনো বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি বাস পেয়ে যাবেন নীলফামারীর উদ্দেশ্য। ঢাকার কলেজগেইট, গাবতলি ও মহাখালী থেকে নিয়মিতভাবে বেশ কিছু বাস নীলফামারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এছাড়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়েও যেতে পারেন নীলফামারী। আর সেখানে পৌঁছে জলঢাকা উপজেলা যাওয়া যায় খুব সহজে।
জলঢাকা থেকে অটো রিক্সা করে আর ১৪/১৫ কিলোমিটার দূরে গড়ের হাট নামক জায়গায় গেলেই এই ধর্মপালের গড়ে পেয়ে যাবেন ।


No comments:
Post a Comment