ঐতিহাসিক শংকরপাশা শাহী মসজিদ : হবিগঞ্জ - Bangladesh Traveling

Breaking

Thursday, July 2, 2020

ঐতিহাসিক শংকরপাশা শাহী মসজিদ : হবিগঞ্জ

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দিয়ে ঘেরা জেলা হবিগঞ্জ ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক আকর্ষণের নাম। প্রকৃতির মাঝে হারাবার জন্য এই জেলায় আছে দেখার মত অনেক জায়গা। হবিগঞ্জ মানেই সবুজে ঘেরা চা বাগান, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানসহ আরও অনেক নৈসর্গিক জায়গার মিলনমেলা। তবে, প্রাচীন নিদর্শনেও এই জেলাটি সমৃদ্ধ। এখানে আছে পাঁচ শত বছরের পুরনো স্থাপত্য শিল্পের অনন্য নিদর্শন শংকরপাশা শাহী মসজিদ (Sankarpasha Shahi Masjid)।




হবিগঞ্জ জেলার রাজিউরা ইউনিয়নের উচাইল গ্রামে শংকরপাশা শাহী মসজিদটি কালের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের দেশের হাতে গোনা কিছু প্রাচীন মসজিদ ছাড়া সুলতানি আমলের সব স্থাপনাই একে একে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে, হবিগঞ্জের এই শংকরপাশা শাহী মসজিদটি আজও সেই ঐতিহ্যকে বুকে করে টিকে আছে সগৌরবে।

প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো এই অনন্য স্থাপত্যটি প্রায় ৬ একর জমিজুড়ে অবস্থিত। এটি একটি টিলার ওপরে দাঁড়িয়ে আছে। এর অপূর্ব নির্মাণশৈলীর কারণে এটি অনেক দূর থেকেই চোখে পড়ে। সুলতানি আমলের অন্যতম এই নিদর্শনটি নির্মাণের উদ্যোগ নেন বিখ্যাত সুফি দরবেশ শাহ মজলিশ আমিন (রা.)। তিনিই প্রথম মসজিদ স্থাপন করেন এখানে। পরবর্তীতে সুলতান আলাউদ্দিন হোসাইন শাহের আমলে এই মসজিদের সু-দৃশ্য ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

মসজিদটির রঙ লাল বলে অনেকে এটাকে লাল মসজিদও বলে থাকেন। আবার টিলার ওপরে অবস্থিত বলে অনেকে ‘টিলা মসজিদ’ও বলেন। দুটো নাম মিলিয়ে অনেকে ‘লাল টিলা’ মসজিদও ডেকে থাকেন। এই মসজিদটি একটি এক চালা ভবন। এর ভবনটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই মাপের। যা ২১ ফুট ৬ ইঞ্চি।

উন্নতমানের পোড়া ইট কেটে কেটে লাগানো হয়েছে এর ভবনে। এর গায়ে কোনও প্রলেপ নেই। দেয়ালের বাইরের অংশে পোড়া ইটের ওপর বিভিন্ন নকশা এবং অলঙ্করণ করা আছে। যা এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। এই মসজিদে একটি শিলালিপি আছে। যা সুলতানি আমলের সাক্ষী বহন করে চলছে।




শংকরপাশা শাহী মসজিদ

মসজিদটির বারান্দা তিন ফুটের থেকে সামান্য বেশি। এর মোট চারটি গম্বুজ রয়েছে। মূল ভবনের ওপর একটি বড় গম্বুজ আছে এবং বারান্দার ওপর আরও তিনটি ছোট গম্বুজ দেখা যায়। এই মসজিদে দরজা-জানালা আছে প্রায় ১৫টি। এই দরজা ও জানালা সবগুলোই একই আকৃতির। এর তিন দিকের দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় পাঁচ ফুট। আর পশ্চিম দিকের দেয়ালের পুরুত্ব এর প্রায় দ্বিগুণ।

মসজিদটিতে মোট স্তম্ভ আছে ছয়টি। এই স্তম্ভগুলো চমৎকার কারুকার্য শোভিত।। এগুলো মসজিদের মূল কক্ষের চার কোণায় ও বারান্দার দুই কোনায় স্থাপন করা আছে। এর ছাদ আর মূল প্রাচীরের কার্নিশ অনেকটা বাঁকানো করে নির্মাণ করা হয়েছে। এই মসজিদটির ভেতর ও বাইরের দেয়াল অপূর্ব কারুকার্য খচিত। যা একে দর্শনার্থীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।

মসজিদের দক্ষিণ পাশে রয়েছে একটি বড় দীঘি। এই দিঘিটি মসজিদটির সৌন্দর্যকে করেছে আরও নজরকাড়া। মসজিদের চারপাশে বাহারী পাতাবাহার গাছ লাগিয়ে একে আরও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। এছাড়া এখানে মুসল্লিদের জন্য ভালো ওযুখানার ব্যবস্থাও রয়েছে। এখানে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা হয়। সুলতানি আমলের এই অসাধারণ নিদর্শনটি দেখতে অসংখ্য পর্যটকদের আগমন ঘটে এখানে।

যেভাবে যাবেন :

ঢাকা থেকে সড়ক অথবা রেল পথে হবিগঞ্জ যাওয়া যায়। কল্যাণপুর, ফকিরাপুল বা আরামবাগ থেকে সোহাগ, আল-মোবারকা, গ্রিন লাইন, এনা, সৌদিয়া, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বাস চড়ে সরাসরি হবিগঞ্জ যেতে পারেন।

এছাড়া, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে জয়ন্তিকা,কালনী, পারাবত বা উপবন এক্সপ্রেসে চড়ে শায়েস্তাগঞ্জ হয়েও হবিগঞ্জ যেতে পারেন। হবিগঞ্জ শায়েস্তাগঞ্জ মোড় থেকে বাস কিংবা সিএনজি চড়ে শংকরপাশা মসজিদে পৌঁছাতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment