বেহুলার বাসর ঘর - Bangladesh Traveling

Breaking

Thursday, July 2, 2020

বেহুলার বাসর ঘর

হিন্দু পুরাণের উল্লেখযোগ্য বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের জনপ্রিয় প্রাচীন লোকগাঁথা এদেশের সবারই কম-বেশি জানা। এ লৌকিক কাহিনীর চমকপ্রদ গল্প নিয়ে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রও। মধুচন্দ্রিমা রাতে মা মনসার অভিশাপে লক্ষ্মীন্দরের মৃত্যু হলে মৃত স্বামীকে কলার ভেলায় চাপিয়ে বেহুলা ইন্দরপুরির উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। সেখানে নেচে গেয়ে ইন্দ্রকে খুশি করতে পারলেই ফিরে পাবে স্বামীর প্রাণ। বেহুলা লক্ষ্মীন্দরের এই কাহিনী সমৃদ্ধ স্থানটি রয়েছে বগুড়া শহর থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে। এটি  ‘বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের বাসর ঘর বা গোকুলের মেধ’ নামে পরিচিত।



প্রাচীন বাংলার প্রথম রাজধানী খ্যাঁত বগুড়ার পুন্ড্রবর্ধন বর্তমান মহাস্থাঙ্গড়ের ২ কিলোমিটার দক্ষিণে গোকুল, পলাশবাড়ি আর রামশহর গ্রামের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত এই প্রত্নস্থলটি। অনেকে একে লক্ষ্মীন্দরের মেধও বলে থাকেন।

বাংলাদেশের প্রত্নতত্ব অধিদপ্তরের মতে, আনুমানিক খৃস্টাব্দ ৭ম শতাব্দী থেকে ১২’শ শতাব্দির মধ্যে এটা নির্মিত হয়। ধারণা করা হয়, এখানেই বেহুলার বাসর ঘর হয়েছিলো। যদিও উপযুক্ত কোনো প্রমাণ মেলেনি। যা সেন যুগের অনেক পূর্বেকার ঘটনা। তবে বর্তমান গবেষকদের মতে, এই প্রত্নতত্বটি ৮০৯ থেকে ৮৪৭ খৃস্টাব্দে দেবপাল নির্মিত একটি বৈদ্যমঠ। এখানে বহু গর্তযুক্ত একটি ছোট প্রস্তর খন্ডের সঙ্গে ষাঁড়ের প্রতিকৃতি একটি স্বর্ণ পত্র পাওয়া গিয়েছিল।

বেহুলার বাসর ঘর
এ থেকে ধারণা করা হয়, এটি একটি বর্গাকৃতির শিব মন্দির ছিল। বিখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা ও হিউয়েন সাং তাদের ভ্রমণ কাহিনীতে এটাকে বৌদ্ধ মঠ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানা যায়। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক গ্রন্থে এই মেধকে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, এটি নির্মাণ করা হয়েছিল পুণ্ড্রবর্ধন রাজধানীকে বাইরের শত্রু থেকে রক্ষা করার জন্য।

প্রত্নস্থলটিতে মোট ১৭২টি কক্ষ রয়েছে। সবগুলো কক্ষের গঠন প্রায় একই। এলোমেলো গঠন আর অস্বাভাবিক দেখতে কক্ষগুলো ত্রিকোণ বিশিষ্ট। পুরো স্থাপনাটি বিভিন্ন তলে মাটি দিয়ে ভরাট করে নিচ থেকে উপরের দিকে ক্রমহ্রাসমান করে এমনভাবে সাজান হয়েছে। যাতে এগুলো কোনো সুউচ্চ মন্দির বা স্তূপের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

ইটের তৈরি এই স্থাপনাটি পূর্ব পশ্চিমে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। এই স্তূপটির একেবারে পশ্চিম পাশে রয়েছে বেহুলার বাসরঘরের প্রবাদ স্মৃতিচিহ্ন। পূর্ব অংশে রয়েছে ২৪ কোন বিশিষ্ট চৌবাচ্চাসদৃশ্য একটি স্নান ঘর ও ৮ ফুট গভীর একটি কূপ। এই কূপের জলেই বেহুলা লক্ষ্মীন্দর মধুনিশি যাপন শেষে শুদ্ধতা লাভ করতেন বলে ধারণা করা হয়। এঈ চমকপ্রদ কাহিনীর স্মৃতিচিহ্ন দেখতে অনেক পর্যটকই নিয়ত ভিড় করে এখানে। বেহুলার বাসর ঘর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। চাইলে প্রত্নতত্ত্ব সমৃদ্ধ স্থাপনা দুটি দেখে যেতে পারেন একই সাথে।

বেহুলার বাসর ঘর
আসা যাওয়া

ঢাকা থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাসের যাতায়াত রয়েছে বগুড়া শহরে। টি আর ট্রাভেলস, শ্যামলী পরিবহণ, এস আর ট্রাভেলস এবং হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসে করে খুব সহজেই যেতে পারেন বগুড়া। বগুড়া শহর থেকে বাস বা সিন এন জি চালিত অটোরিকশা যোগে পৌঁছে যাবেন গোকুল বাজারে। তারপর সেখান থেকে ভ্যান বা রিকশায় অনায়াসে পৌঁছে যাবেন বেহুলার বাসরঘরে।

থাকা খাওয়া

থাকা খাওয়ার জন্য আপনাকে বগুড়া শহরেই ফিরে আসতে হবে। গোকুলের আশপাশে থাকা খাওয়ার তেমন কোন জায়গা নেই। শহরে এসে বিভিন্ন মানের হোটেল পাবেন। রয়েছে চার তারকা হোটেল ও ভালো মানের খাওয়ার স্থান।

No comments:

Post a Comment