ঢাকার নিকটে অবস্থিত গাজীপুর এখন বাণিজ্যিক এক প্রাণ কেন্দ্র হলেও এখানকার ঐতিহাসিক গুরুত্বও অনেক বেশি। এখানে এক সময়ে বাঙলার কিছু বিখ্যাত স্থাপনা আজও রয়েছে। আজ রইল সেসব নিয়েই আয়োজন।
ভাওয়াল রাজবাড়ি :
উপনিবেশিক আমলে ভারতে এক পরিচিত নাম ভাওয়াল রাজবাড়ি। বিংশ শতকের প্রথম দিকে একটি বিশ্ব বিখ্যাত মামলা হয়েছিল যা ভাওয়ালের জমিদার বংশের রাজকুমার রমেন্দ্রনারায়ণ রায়কে ঘিরে যা ভাওয়ালের সন্ন্যাসী মামলা নামেই অধিক বিখ্যাত। এ ঘটনা থেকে কবিতা, উপন্যাস এমনকি কিছু দিন আগে সিনেমাও তৈরি হয়েছে।
১৮৭৮ সালে এই পরিবারের জমিদার কালীনারায়ণ ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে বংশানুক্রমিক ‘রাজা’ উপাধি লাভ করেন। কালীনারায়ণের পুত্র রাজা রাজেন্দ্রনারায়ণ রায় চৌধুরী এই জমিদারির আরও বিস্তৃতি ঘটান। রাজা নিজেই সরাসরি জমিদারি পরিচালনা করতেন। সেই ভাওয়ালের রাজবাড়ী এখনো দাড়িয়ে আছে কালের স্বাক্ষী হয়ে।
ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী :
বাংলাদেশের প্রত্ন ঐতিহ্যের একটি অংশ হল ভাওয়াল রাজ শ্মশানেশ্বরী। মূলত ভাওয়াল জমিদার পরিবারের সদস্যদের শবদাহ, সৌধ নির্মাণ ও নামফলক স্থান এটি। জায়গাটি চিলাই নদীর দক্ষিণ তীরে জুড়ে প্রায় এক কিলোমিটার উত্তরে ভুরুলিয়া রাস্তার পাশে অবস্থিত।

বলিয়াদী জমিদার বাড়ি :
এই জমিদার বাড়ী অন্যান্য মিদার বাড়ীর মতো ব্রিট্রিশ আমলের ঐতিহ্য নয়,এটা মূলত চারশো বছরের পুরনো স্মৃতি বহন করে চলা এক ইতিহাস। বলিয়াদী এস্টেট মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের ফরমান বলে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬১২ খৃস্টাব্দে। ইসলাম জগতের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর সিদ্দিকী (রা:) বংশধর বলিয়াদী নবাব কুতুব উদ্দিন সিদ্দিকীর পুত্র সাদ উদ্দিন সিদ্দিকী বলিয়াদী এস্টেটের প্রথম কর্ণধার ছিলেন।
সেইন্ট নিকোলাস চার্চ :
এদেশে অধিকাংশ জায়গার বিখ্যাত খ্রিষ্টান স্থাপন গুলো ব্রিটিশ আমলের হলেও এই গির্জা মুগল আমলের। গাজীপুর জেলার দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে এটি অবস্থিত। নাগরীতে ষোড়শ শতকের শেষ দিকে পর্তুগিজ খ্রিস্টানরা আস্তানা গাড়ে এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতিক্রমে ১৬৬৪ সালে তারা প্রথম গির্জা স্থাপন করেন। পরে ১৬৮০ সালে পাকা ইমারত করা হয়। এখান থেকে কালীগঞ্জের আঞ্চলিক বাংলা ভাষার প্রথম বাইবেল অনুদিত হয়। সর্বপ্রথম বাংলা ভাষার দ্বিভাষিক অভিধান ও প্রথম গদ্য ছাপার বইও প্রকাশিত হয়।

বলধা জমিদার বাড়ি :
বলধার জমিদার ছিলেন রাজ কিশোর রায় চৌধুরী। তার দত্তক পুত্র ছিলেন জমিদার হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী। ধারণা করা হয়ে থাকে হরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরী এ জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করেন। পুরো জমিদার বাড়িটি ছিল ৪০ কামরা বিশিষ্ট। কালী বাড়িটি ছয় কক্ষ বিশিষ্ট ‘ভি’ আকৃতির একতলা পাকা ভবন। সেগুলোও এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সেখানে কেবল বলধার জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে।
দত্তপাড়া জমিদার বাড়ি :
এই জমিদার বাড়িটি মুলয় দোতলা ডার্ক পিংক কালারের পলেস্তরা করা একটি অসাধারণ স্থাপনা। সামনে আবার লোহার বিমের উপর প্লাস্টিকের টিনের ছাউনি দিয়ে ঘেরা। দত্ত সাহেব ছিলেন গাজীপুরের ভাওয়াল রাজার নাতি এবং চৌষট্টি’র রায়টের পর তিনি তার প্রায় দুইশত একর জমিদারী এক ব্যবসায়ীর সাথে বিনিময় করে ভারতে চলে যান। বর্তমানে জমিদার বাড়ীটি একটি এনজিও লিজ নিয়ে হাসপাতাল হিসেবে ব্যাবহার করছে।
No comments:
Post a Comment